করোনাক্রান্ত পৃথিবীতে
করোনা আক্রান্ত পৃথিবীর আকাশে ঈদের চাঁদঃ
ব্যতিক্রমী আবেশে ঈদুল ফিতর-১৪৪১ হিজরী উদযাপন
-শেখ মুহাম্মাদ রমজান হোসেন
ঈদুল ফিতর (আরবি: عيد الفطر অর্থাৎ "রোযা ভাঙার দিবস") ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি।[১] দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা। ঈদুল ফিতর ইসলামী পরিভাষায় একে ইয়াউমুল জাএজ (অর্থ: পুরস্কারের দিবস) হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দের সাথে পালন করে থাকে।[২]
ঈদ শব্দের নামকরণ
'ঈদ' ﻋﻴﺪ Eid এর আভিধানিক অর্থ ঈদ '(আনন্দ) একটি আরবি পরিভাষা। আভিধানিক অর্থ খুশী, আনন্দ, উৎসব, ঋতু ইত্যাদি। 'ঈদ' শব্দটি আরবী আদুউন শব্দমূল থেকে উদ্ভূত হলে এর অর্থ হবে প্রত্যার্বতন করা, প্রত্যাগমন করা, বারবার ফিরে আসা, ঘুরে ফিরে আসা ইত্যাদ। বর্ষ পরিক্রমায় যেহেতু প্রতি বছর ঈদ প্রত্যাবর্তন করে সেহেতু এ দিনটিকে ঈদ অর্থাৎ ঈদের দিন। আল-ইফরীকী (রহ.) ও আল ফরিযাবাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ঈদ বলা হয়, আরবদের কাছে এমন সময়কে যাতে আনন্দ কিংবা দুঃখ বারবার ফিরে আসে।
লিসানুল আরব অভিধানে রয়েছে, আরবদের কাছে ঈদ বলা হয় এমন সময়কে, যে সময় আনন্দ ও দুঃখ ফিরে আসে। আল মুহিত অভিধানে রয়েছে, যে রোগ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা বা অনুরূপ কোনো কিছু বারবার ফিরে আসে তাকে ঈদ বলা হয়। আল মুনজিদ অভিধানে বলা হয়েছে, ঈদ এমন দিনকে বলা হয়, যাতে লোকজনের সমাগম হয় বা কোনো সম্মানিত ব্যক্তি অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার স্মৃতিচারণা করা হয়। ঈদ প্রতিবছর সাজগোজ, আনন্দ-খুশি ও নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে ফিরে আসে। এ কারণে ঈদের দিনকে আনন্দ ও খুশির দিন বলা হয়। অভিধানে বলা হয়েছে, ঈদকে এ জন্য ঈদ বলা হয় যে তা প্রতিবছর নতুন আনন্দ ও খুশি নিয়ে ফিরে আসে।
ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ
ফিতর’ শব্দটি একটি আরবি পরিভাষা। বাংলায় ভঙ্গকরণ (Breaking)। ইফতার শব্দটিও ফিতর’ শব্দ থেকে নিস্পন্ন। সারাদিন উপবাস থেকে রোযা পালন শেষে সূর্যাস্তের পরক্ষণে যা কিছু খেয়ে থাকি বা পান করে থাকি তা রোজা ভঙ্গকরণের উদ্দেশ্যে করা হয় বিধায় এই খাবারকে আমরা "ইফতারী" বলে থাকি। রোজা ভঙ্গ-কে উপলক্ষ্য করে যে সাদাকাহ বা দান-খয়রাত করা হয় তার নাম ফিতরা।
শারী'আতের পরিভাষায় শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত সময়কে ঈদুল ফিতর বলা হয়।
পবিত্র কুরআন মাজীদে আনন্দ প্রকাশার্থে ঈদ শব্দের ব্যবহার
١١٤- قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّـهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ◯
অর্থঃ মরিয়ম তনয় ঈসা বলল, হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন, তা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্য হবে ঈদ-আনন্দোৎসব এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১১৪)। এই আয়াতে আসমানি খাদ্য নাজিল হওয়ার দিনটি পরবর্তীদের জন্য স্মৃতিচারণার দিন হওয়ায় তাকে ঈদ বলা হয়েছে।
ঈদ-উল-ফিতরের স্থানীয় নাম
ঈদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর ঈদের প্রবর্তন হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় পৌঁছে দেখতে পান যে মদিনায় বসবাসকারী ইহুদিরা শরতের পূর্ণিমায় নওরোজ উৎসব এবং বসন্তের পূর্ণিমায় মেহেরজান উৎসব উদ্যাপন করছে। তারা এ উৎসবে নানা আয়োজন, আচার-অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আনন্দ উৎসব করে থাকে। মহানবী (সা.) মুসলমানদের এ দুটি উৎসব পালন করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তোমাদের ওই উৎসবের বিনিময়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো পবিত্র দুটি দিন দান করেছেন। এতে তোমরা পবিত্রতার সঙ্গে উৎসব পালন করো। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তাদের দুটি দিন ছিল, যাতে তারা উৎসব পালন করত। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এ দুটি কিসের দিন? তারা বলল, আমরা জাহেলি যুগে এ দুই দিন খেলাধুলা ইত্যাদি উৎসব পালন করতাম। এ নিয়মই চলে আসছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দুটির পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১১৩৬; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১৩৬৪৭)
প্রাচীনকালের বুজর্গানে দীনদের মতে ঈদ উৎসব
ঈদুল ফিতর ও আমাদের করণীয়
প্রথমত ধর্মীয়;
১. রোজা না রাখা:
ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম। তাই ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা আমাদের জন্য মোটেও ঠিক হবে না। আবু সাঈদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদের দিন (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায়) রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।’’ [সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
১. রোজা না রাখা:
ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম। তাই ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা আমাদের জন্য মোটেও ঠিক হবে না। আবু সাঈদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদের দিন (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায়) রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।’’ [সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
২. গোসল করা:
ঈদের সালাতের পূর্বে গোসল করা সুন্নাত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামাযে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক]।
ঈদের সালাতের পূর্বে গোসল করা সুন্নাত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামাযে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক]।
৩. হালকা কিছু খাওয়া:
ঈদের নামাযে যাওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া সুন্নাত। হাদিসে খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। [সহীহ আল বুখারী]।
ঈদের নামাযে যাওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া সুন্নাত। হাদিসে খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। [সহীহ আল বুখারী]।
৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা:
ঈদের দিন আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: মুসলিম পন্ডিতগণ প্রত্যেক ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার করা ও সুসজ্জিত হওয়াকে মুস্তাহাব বলেছেন। [আল মুগনী]।
ঈদের দিন আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: মুসলিম পন্ডিতগণ প্রত্যেক ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার করা ও সুসজ্জিত হওয়াকে মুস্তাহাব বলেছেন। [আল মুগনী]।
৫. সুন্দর পোশাক পরিধান করা:
ঈদের আরেকটি করণীয় হলো এদিনটিতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সুন্দর পোষাক পরিধান করা। জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি সুন্দর জুববা ছিল যা তিনি দুই ঈদে ও জুম‘আর দিনে পরিধান করতেন। [মুসনাদ বায়হাকী]। অথচ আজকাল আমরা নতুন কাপড় কেনাকে ফরজের চাইতেও বেশি কিছু মনে করি। নতুন কাপড় না পেলে ঝগড়াঝাটি আত্মহত্যা ও ডিভোর্স এর মতো অমানবিক ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমাদের সবাইকে এসব অনৈতিক আচরণ যা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায় তা পরিহার করা উচিত।
ঈদের আরেকটি করণীয় হলো এদিনটিতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সুন্দর পোষাক পরিধান করা। জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি সুন্দর জুববা ছিল যা তিনি দুই ঈদে ও জুম‘আর দিনে পরিধান করতেন। [মুসনাদ বায়হাকী]। অথচ আজকাল আমরা নতুন কাপড় কেনাকে ফরজের চাইতেও বেশি কিছু মনে করি। নতুন কাপড় না পেলে ঝগড়াঝাটি আত্মহত্যা ও ডিভোর্স এর মতো অমানবিক ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমাদের সবাইকে এসব অনৈতিক আচরণ যা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায় তা পরিহার করা উচিত।
৬. সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা:
ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। যা একদিকে অশ্লীল-অনর্থক কথা ও কাজ দ্বারা কলুষিত রোযাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে অসহায়-নিঃস্বকে খাদ্য দানে সাহায্য ও সহায়তা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
যে ব্যক্তি সাদাকাতুল ফিতর ঈদের নামাযের পূর্বে আদায় করে, তা কবুল করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পরে আদায় করবে, তা সাধারণ সাদাকাহ হিসেবে পরিগণিত হবে। [সহীহ ইবনু খুযাইমা]।
ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। যা একদিকে অশ্লীল-অনর্থক কথা ও কাজ দ্বারা কলুষিত রোযাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে অসহায়-নিঃস্বকে খাদ্য দানে সাহায্য ও সহায়তা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
যে ব্যক্তি সাদাকাতুল ফিতর ঈদের নামাযের পূর্বে আদায় করে, তা কবুল করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পরে আদায় করবে, তা সাধারণ সাদাকাহ হিসেবে পরিগণিত হবে। [সহীহ ইবনু খুযাইমা]।
৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া :
সাঈদ ইবনু যুবাইর (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। রাসুল সাঃ পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতেন। পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না হলে বাহনে চড়ে ঈদগাহে যাওয়া দোষণীয় নয়।
সাঈদ ইবনু যুবাইর (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। রাসুল সাঃ পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতেন। পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না হলে বাহনে চড়ে ঈদগাহে যাওয়া দোষণীয় নয়।
৮. এক রাস্তায় যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে আসা:
ঈদের আরেকটি সুন্নাত হলো এটি: এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। এতে দীর্ঘ হাঁটা এবং বেশি মানুষের সাথে মিশা ও তাদের খুঁজ খবর নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ইবনু যুবাইর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাঃ এক রাস্তা দিয়ে ঈদের সালাতে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন। (সহীহ আল বুখারী)
ঈদের আরেকটি সুন্নাত হলো এটি: এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। এতে দীর্ঘ হাঁটা এবং বেশি মানুষের সাথে মিশা ও তাদের খুঁজ খবর নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ইবনু যুবাইর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাঃ এক রাস্তা দিয়ে ঈদের সালাতে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন। (সহীহ আল বুখারী)
৯. তাকবীর বলাঃ
তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। রমযান সংক্রান্ত আয়াতের শেষের দিকে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তোমরা (রমযানের) রোজা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্টত্ব বর্ণনা করো। [সূরা আল বাকারা: ১৮৫]।
ইবনু উমার (রা.) হতে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাকবীর বলতেন।
তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। রমযান সংক্রান্ত আয়াতের শেষের দিকে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তোমরা (রমযানের) রোজা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্টত্ব বর্ণনা করো। [সূরা আল বাকারা: ১৮৫]।
ইবনু উমার (রা.) হতে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাকবীর বলতেন।
তাকবীর কিভাবে বলতে হবে:
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এর সাথে বাড়িয়ে এভাবেও বলা যাবে: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। আল্লাহু আকবার কাবীরা, ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়াসিলা। [আত তাবারানী]।
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এর সাথে বাড়িয়ে এভাবেও বলা যাবে: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। আল্লাহু আকবার কাবীরা, ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়াসিলা। [আত তাবারানী]।
১০. ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় :
ঈদের দিনে পারস্পারিক ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা ঈদের আরেকটি সুন্নাত। প্রত্যেক জাতি তাদের স্ব স্ব ভাষায় শুভেচছা বিনিময় করতে পারে। ‘‘তাক্বাববালুল্লাহা মিন্না ওয়া মিনকুম’’ (আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে কবুল করুন)। এ জাতীয় যে কোন বাক্য দ্বারা ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা।
ঈদের দিনে পারস্পারিক ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা ঈদের আরেকটি সুন্নাত। প্রত্যেক জাতি তাদের স্ব স্ব ভাষায় শুভেচছা বিনিময় করতে পারে। ‘‘তাক্বাববালুল্লাহা মিন্না ওয়া মিনকুম’’ (আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে কবুল করুন)। এ জাতীয় যে কোন বাক্য দ্বারা ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করা।
১১. ঈদের সালাত আদায় করা:
ঈদের দিন ঈদের সালাতের পূর্বে কোন সালাত আদায় করা ঠিক নয়। ইবনু আববাস (রা.) বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন বের হয়ে শুধুমাত্র ঈদের দু’ রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন। ঈদের সালাতের পূর্বে বা পরে নফল বা অতিরিক্ত কোন সালাত আদায় করতেন না। [সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম ও সুনান আত তিরমিযী]।
ইবনু উমার, আবু সাঈদ ও ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্নিত আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবার আগে ঈদের সালাত আদায় করতেন। [সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম]।
ঈদের দিন ঈদের সালাতের পূর্বে কোন সালাত আদায় করা ঠিক নয়। ইবনু আববাস (রা.) বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন বের হয়ে শুধুমাত্র ঈদের দু’ রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন। ঈদের সালাতের পূর্বে বা পরে নফল বা অতিরিক্ত কোন সালাত আদায় করতেন না। [সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম ও সুনান আত তিরমিযী]।
ইবনু উমার, আবু সাঈদ ও ইবনু আববাস (রা.) হতে বর্নিত আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবার আগে ঈদের সালাত আদায় করতেন। [সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম]।
১২. খুতবাহ শুনা ও দোয়া করা : ঈদের সালাতের পরে ইমাম সাহেব খুতবাহ প্রদান করবেন এবং মুসল্লিগণ তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবেন। এটি পালন করা ওয়াজিব।
খুতবাতে মুসলিম উম্মাহর দিক-নির্দেশনামূলক বাণী ও সকলের কল্যাণের জন্য দোয়া থাকা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত বস্তু হল দোয়া।
’’তিনি স্বয়ং মানুষকে দোয়া করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যারা দোয়া করে না তাদেরকে তিনি অহংকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আল্লাহ ইরশাদ করেন: ‘‘আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করবো। যারা অহংকারের বশে আমার ইবাদত হতে বিমুখ, তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’’ [সূরা মু’মিম: ৬০]। তাই এ দিনে আমাদের উচিত মাতা-পিতা, আত্মীয় স্বজন, মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ ও মৃতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর কাছে একাগ্রচিত্তে দোয়া করা।
খুতবাতে মুসলিম উম্মাহর দিক-নির্দেশনামূলক বাণী ও সকলের কল্যাণের জন্য দোয়া থাকা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত বস্তু হল দোয়া।
’’তিনি স্বয়ং মানুষকে দোয়া করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যারা দোয়া করে না তাদেরকে তিনি অহংকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আল্লাহ ইরশাদ করেন: ‘‘আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করবো। যারা অহংকারের বশে আমার ইবাদত হতে বিমুখ, তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’’ [সূরা মু’মিম: ৬০]। তাই এ দিনে আমাদের উচিত মাতা-পিতা, আত্মীয় স্বজন, মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ ও মৃতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর কাছে একাগ্রচিত্তে দোয়া করা।
দ্বিতীয় করণীয়ঃ
এ দিনের সমাজিক করণীয় কাজগুলো হলো পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন, গরীব-অসহায় এতিম মিসকিন নির্বিশেষে সকলের সাথে মিশা, সকলের খোঁজ-খবর নেয়া, তাদেরকে বাসা বা বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানানো ও সাধ্যমতো খাওয়ানো।
এছাড়া ঈদগাহের কাজে শরীক হওয়া, দলে দলে তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া, সবার সাথে আনন্দ-খুশি প্রকাশ করা, পারস্পারিক ভাব বিনিময় ও হিংসা ক্লেশসহ সকল উঁচুনিচু ভেদাভেদ ভুলে সবার সাথে একাকার হয়ে যাওয়া।
ইসলামের ইতিহাসে মদিনায় প্রথম ঈদ
এ দিনের সমাজিক করণীয় কাজগুলো হলো পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন, গরীব-অসহায় এতিম মিসকিন নির্বিশেষে সকলের সাথে মিশা, সকলের খোঁজ-খবর নেয়া, তাদেরকে বাসা বা বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানানো ও সাধ্যমতো খাওয়ানো।
এছাড়া ঈদগাহের কাজে শরীক হওয়া, দলে দলে তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া, সবার সাথে আনন্দ-খুশি প্রকাশ করা, পারস্পারিক ভাব বিনিময় ও হিংসা ক্লেশসহ সকল উঁচুনিচু ভেদাভেদ ভুলে সবার সাথে একাকার হয়ে যাওয়া।
ইসলামের ইতিহাসে মদিনায় প্রথম ঈদ
মুসলমানরা প্রথম ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ে দ্বিতীয় হিজরি মোতাবেক ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ বা ৩১ মার্চ। তখনকার ঈদে বর্তমান ঈদের মতো নতুন জামা-কাপড়, কেনাকাটার ধুমধাম ছিল না। তবে আনন্দ-খুশি কম ছিল না। মহানবী (সা.) ঈদের দিন ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি খেয়াল করতেন। মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) আনন্দ করতেন। শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত সব আনন্দ করার অনুমতি দিতেন। বালিকা বয়সী আয়েশা (রা.)-এর মনের বাসনাও রাসুল (সা.) পূরণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছে। মহানবী (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, হে আয়েশা! তুমি কি লাঠিখেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করান, আমি আমার গাল তাঁর গালের ওপর রেখে লাঠিখেলা দেখতে লাগলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা! লাঠি শক্ত করে ধরো। আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। তিনি তখন বলেন, তোমার দেখা হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তাহলে এবার যাও।
ঈদের দিনে মহানবী (সা.)-এর আমল
মহানবী (সা.) ঈদের দিনে গোসল করতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে উত্তম পোশাক পরতেন। ঈদুল ফিতরে কিছু মিষ্টি দ্রব্য খেতেন।
ঈদুল আজহায় কিছু খেতেন না। কোরবানির গোশত দিয়ে দিবসের প্রথম আহার করতেন। ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যেতেন, অন্য রাস্তা দিয়ে আসতেন। তিনি ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাতেন। গরিব-দুঃখীদের খোঁজখবর নিতেন। অতঃপর ঈদগাহে গিয়ে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। নামাজ থেকে ফারেগ হয়ে খুতবা দিতেন। ঈদুল ফিতরের খুতবায় ঈদের করণীয় কাজ এবং ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব বর্ণনা করতেন।
সাহাবায়ে কেরামে রদ্বিয়াল্লাহু আনহুদের ঈদ উৎসব
সাহাবায়ে কেরাম সর্বক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর অনুসরণ করতেন। তাঁরা এ বাক্যের মাধ্যমে ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে আজও ঈদ মুবারক, Eid Mubarak সম্ভাষণের রেওয়াজ চালু রয়েছে।
সাহাবায়ে কেরাম মাহে রমজানে গুনাহ মাফ হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে বেশি চিন্তিত থাকতেন। তাই আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর ফারুক (রা.) ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে বলতে থাকেন, আমার গুনাহ মাফ না হলে আমি ঈদগাহে গিয়ে কিভাবে ইমামতি করতে পারি। তাঁদের ঈদে নতুন জামা, জুতা ও খাওয়াদাওয়ার ধুমধাম ছিল না। তবে আনন্দ কম ছিল না। মহানবী (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ করা, তাঁকে কাছে পাওয়া, তাঁর নির্দেশ পালন করাই ছিল তাঁদের প্রকৃত আনন্দ। ঈদের দিন অনেক দূর থেকে সাহাবায়ে কেরাম ছুটে যেতেন মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য এবং তাঁর পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ার জন্য।
প্রাচীনকালের বুজর্গানে দীনদের মতে ঈদ উৎসব
প্রকৃত ঈদ : হাসান বসরি (রহ.) বলেন, যেদিন নিজেকে আল্লাহ তাআলার নাফরমানি থেকে নিবৃত্ত রাখতে পারবে, তোমার জন্য সেদিনই ঈদের দিন। মুমিন বান্দা যে দিনটি আপন মাওলার স্মরণ, কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যে অতিবাহিত করল, সেই দিনটি তার জন্য মহা আনন্দের দিন। (লাতায়িফুল মাআরিফ; ইবনে রজব হাম্বলি : ১/২৭৮)
দৃষ্টি সংযত রাখা : ওয়াকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ঈদের দিন আমরা মুহাদ্দিস সুফিয়ান সাওরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সঙ্গে বের হলাম। তিনি আমাদের সম্বোধন করে বলেন, যে বিষয় দিয়ে আমরা ঈদের দিনটি শুরু করি তা হলো নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখা। (আল ওয়ারা; ইবনে আবিদ দুনিয়া, পৃ. ৬৩, কুয়েত, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৮ হি.)
ঈদ ও কিয়ামতের সাদৃশ্য : আল্লামা ইবনুল জাওজি (রহিমাহুল্লাহ) কতই না সুন্দর লিখেছেন, ঈদের দিনে লোকদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এটাকে কিয়ামতের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়েছে। কেননা লোকেরা ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে জেগে ঈদগাহর দিকে ছুটতে থাকে; তেমনিভাবে কিয়ামতের দিন কবর থেকে উঠে সবাই হাশরের ময়দানের দিকে ছুটতে থাকবে। ঈদের দিন কারো পোশাক ও গাড়ি থাকে খুব উন্নতমানের, কারো থাকে মাঝারি মানের, আবার কারো থাকে একেবারে নিম্নমানের; তেমনিভাবে কিয়ামতের দিন মানুষের স্তর হবে ভিন্ন ভিন্ন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন দয়াময়ের কাছে পরহেজগারদের অতিথিরূপে সমবেত করব।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৮৫) অর্থাৎ আরোহী অবস্থায়।
তারপর আল্লাহ বলেন, ‘এবং অপরাধীদের পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৮৬) অর্থাৎ তৃষ্ণার্ত অবস্থায়। এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামত দিবসে লোকদের সমবেত করা হবে, কেউ আরোহী অবস্থায়, কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ উপুড় অবস্থায়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪২৪)
ঈদের দিন ভিড়ের কারণে কোনো মানুষ পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায়; তেমনিভাবে কিয়ামতের দিন জালিমদের মানুষ পা দিয়ে পিষ্ট করবে। ঈদের দিন কোনো মানুষ থাকে ধনী এবং দানকারী; তেমনিভাবে কিয়ামতের দিন দুনিয়ার দানশীলরা ওখানেও দানশীল প্রমাণিত হবে, পক্ষান্তরে কিছু মানুষ থাকবে ভিক্ষুক ও (নেকির) মুখাপেক্ষী। ঈদের দিন লোকেরা নামাজ শেষে বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘরে আসে, ফুর্তি করে, অন্যদের জানায় যে এরা সব তার বন্ধু; তেমনিভাবে কিয়ামত দিবসে মানুষ নিজের আমলের পুরস্কার পেয়ে পুলকিত হয়ে নিজ জান্নাতে ফিরবে, পক্ষান্তরে কিছু মানুষ খালি হাতে শূন্য ঘরে ফিরবে। সুতরাং বুদ্ধিমানদের জন্য উচিত হলো এসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। (সায়দুল খাতির; ইবনুল জাওজি, পৃ. ৪৮০-৪৮১)আল-কুরআনের আলোকে হেলাল (Crescent) বা বাঁকা চাঁদ ١٨٩-يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ ۗ ◯
They ask thee concerning the new moons. Say: they are but signs to mark fixed periods of time in (the affairs of) men and for pilgrimage. Translated by Abdullah Yusuf Ali).
অর্থ: লোকেরা আপনাকে চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন সেটা হলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক এবং হজ্জের সময় নিরূপক বা সময় ঠিক করার মাধ্যম। (পবিত্র সূরাতুল্ বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত নং-১৮৯) উক্ত আয়াতে ‘আহলাত' শব্দটি ‘হেলালুন’ শব্দের বহুবচন। অর্থ নতুন চাঁদ সমূহ। আয়াতে কারীমার ব্যাখ্যার্থে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “আল্লাহ্ তায়ালা নতুন চাঁদকে মানুষের জন্য সময় নির্ধারক করেছেন। অতএব তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ কর। আল-হাদিসের আলোকে
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা:) এরশাদ করেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে। তাহলে শাবানের গণনা ত্রিশদিন পুরা করবে। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূল (সা:) বলেছেন, যখন তোমরা চাঁদ দেখবে তখন রোজা আরম্ভ করবে এবং যখন চাঁদ দেখবে তখন ইফতার করবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ৩০ দিন রোজা পালন করবে। বর্ণিত হাদীসগুলো থেকে যা জানা যায় তা হলো ১) আরবি মাস ২৯ দিন অথবা ৩০ দিন হয়ে থাকে। ২) মাস ২৯ দিন হওয়ার কারণে শাবান মাসের শেষে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার ফলে রমজানে চাঁদ দেখা না গেলে শাবানের গণনা ৩০ দিন পূর্ণ করতে হবে। ৩) ২৯ রমজান শেষে আকাশ মেঘলা থাকার কারণে শাওয়াল এর চাঁদ দেখা না গেলে রমজান মাসও ৩০ দিন হিসাব করতে হবে। ৪) রোজা শুরু করা, সমাপ্ত করা, ঈদ উদযাপন করা ও হজ্বের তারিখ নির্ধারণ করার বিষয়টি চাঁদ দেখার উপরই নির্ভরশীল।
ঈদের তারিখ নির্ধারণ
They ask thee concerning the new moons. Say: they are but signs to mark fixed periods of time in (the affairs of) men and for pilgrimage. Translated by Abdullah Yusuf Ali).
অর্থ: লোকেরা আপনাকে চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন সেটা হলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক এবং হজ্জের সময় নিরূপক বা সময় ঠিক করার মাধ্যম। (পবিত্র সূরাতুল্ বাক্বারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত নং-১৮৯)
উক্ত আয়াতে ‘আহলাত' শব্দটি ‘হেলালুন’ শব্দের বহুবচন। অর্থ নতুন চাঁদ সমূহ। আয়াতে কারীমার ব্যাখ্যার্থে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “আল্লাহ্ তায়ালা নতুন চাঁদকে মানুষের জন্য সময় নির্ধারক করেছেন। অতএব তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ কর।
আল-হাদিসের আলোকেআবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা:) এরশাদ করেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে। তাহলে শাবানের গণনা ত্রিশদিন পুরা করবে।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূল (সা:) বলেছেন, যখন তোমরা চাঁদ দেখবে তখন রোজা আরম্ভ করবে এবং যখন চাঁদ দেখবে তখন ইফতার করবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ৩০ দিন রোজা পালন করবে।
বর্ণিত হাদীসগুলো থেকে যা জানা যায় তা হলো
১) আরবি মাস ২৯ দিন অথবা ৩০ দিন হয়ে থাকে।
২) মাস ২৯ দিন হওয়ার কারণে শাবান মাসের শেষে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার ফলে রমজানে চাঁদ দেখা না গেলে শাবানের গণনা ৩০ দিন পূর্ণ করতে হবে।
৩) ২৯ রমজান শেষে আকাশ মেঘলা থাকার কারণে শাওয়াল এর চাঁদ দেখা না গেলে রমজান মাসও ৩০ দিন হিসাব করতে হবে।
৪) রোজা শুরু করা, সমাপ্ত করা, ঈদ উদযাপন করা ও হজ্বের তারিখ নির্ধারণ করার বিষয়টি চাঁদ দেখার উপরই নির্ভরশীল।
হিজরি বর্ষপঞ্জী অনুসারে রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা হয়।[৫] তবে এই পঞ্জিকা অনুসারে কোনও অবস্থাতে রমজান মাস ৩০ দিনের বেশি দীর্ঘ হবে না। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের সমাপ্তিতে শাওয়ালের প্রারম্ভ গণনা করা হয়। ঈদের আগের রাতটিকে ইসলামী পরিভাষায় লাইলাতুল জায়জা (অর্থ: পুরস্কার রজনী) এবং চলতি ভাষায় "চাঁদ রাত" বলা হয়। শাওয়াল মাসের চাঁদ অর্থাৎ সূর্যাস্তে একফালি নতুন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদ হয় এই কথা থেকেই চাঁদ রাত কথাটির উদ্ভব। ঈদের চাঁদ স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈদের ঘোষণা দেয়া ইসলামী বিধান।
জাতীয় হেলাল কমিটি
আধুনিক কালে অনেক দেশে গাণিতিক হিসাবে ঈদের দিন নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশে ঈদের দিন নির্ধারিত হয় দেশের কোথাও না-কোথাও চাঁদ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় হেলাল কমিটি বা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে। দেশের কোনো স্থানে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা গেলে যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে ঈদের দিন ঠিক করা হয়।
চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার বিধান :
মুসলিম সরকার কর্তৃক অনুমোদিত চাঁদ দেখা কমিটি যদি অভিজ্ঞ মুফতি ও আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং ওই কমিটি শরিয়তের নীতিমালা অনুযায়ী ঘোষণা দিয়ে থাকে, তাহলে তাদের ঘোষণার ওপর সবার আমল করা জরুরি, অন্যথায় তাদের ঘোষণা অনুযায়ী আমল করা জরুরি হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুফতিরা যদি শরিয়তসম্মত পন্থায় চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, তাহলে তাঁদের ঘোষণা অনুযায়ী আমল করা সবার জন্য জরুরি। (বাহরুর রায়েক : ২/২৬৬, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৮৯, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৬৬, ফাতাওয়া হক্কানিয়া : ৪/১৩৫)
মুসলিম সরকার কর্তৃক অনুমোদিত চাঁদ দেখা কমিটি যদি অভিজ্ঞ মুফতি ও আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং ওই কমিটি শরিয়তের নীতিমালা অনুযায়ী ঘোষণা দিয়ে থাকে, তাহলে তাদের ঘোষণার ওপর সবার আমল করা জরুরি, অন্যথায় তাদের ঘোষণা অনুযায়ী আমল করা জরুরি হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুফতিরা যদি শরিয়তসম্মত পন্থায় চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, তাহলে তাঁদের ঘোষণা অনুযায়ী আমল করা সবার জন্য জরুরি। (বাহরুর রায়েক : ২/২৬৬, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৮৯, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৬৬, ফাতাওয়া হক্কানিয়া : ৪/১৩৫)
আকাশ অপরিষ্কার থাকলে রমজানের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার জন্য চাঁদ প্রত্যক্ষকারী সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বালেগ, শরিয়তের অনুশাসন মান্যকারী নির্ভরযোগ্য মুসলমান হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর একই বিধান। ঈদের চাঁদ দেখার জন্যও অনুরূপ গুণসম্পন্ন দুজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুজন নারী হতে হবে। (আল বিনায়া : ৪/২৫, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৯১, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১৯৭) আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখার শরয়ি বিধান হলো, এতসংখ্যক লোক চাঁদের সাক্ষ্য দেওয়া জরুরি, যার দ্বারা চাঁদ দেখা কমিটি বা শরয়ি কাজি কিংবা দেশের বিশিষ্ট অভিজ্ঞ মুফতিদের কাছে তা দৃঢ়বিশ্বাস্য হয়ে যায়। এর বিশেষ কোনো সংখ্যা নির্ধারিত নেই। (হেদায়া : ১/১১৯, আহকামুল কোরআন লিল জাস্সাস : ১/২৮০)
বাংলাদেশে চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় কীভাবে?
কিভাবে কাজ করে চাঁদ দেখা কমিটি?
ঈদের চাঁদে খুশির চিহ্ন
খবরে ঈদ-উল-ফিতরঃ ১৪৪১ হিজরী সাল
বাংলাদেশে চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় কীভাবে?
কিভাবে কাজ করে চাঁদ দেখা কমিটি?
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যে বিভাগটি চাঁদ দেখার মূল দায়িত্ব পালন করেন সে বিভাগটির বর্তমানে দায়িত্বে আছেন প্রতিষ্ঠানটির দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ।চাঁদ দেখার সংবাদ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠকে বসেন চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা, যেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করে থাকেন।
মূল চাঁদ দেখা কমিটির সাথে একযোগে প্রতিটি জেলায় একটি করে কমিটি কাজ করে। দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সেটি স্থানীয় প্রশাসন বা স্থানীয় জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জেলা কমিটির কাছে পৌঁছায়। পরে জেলা প্রশাসন দ্রুত সেটি নিশ্চিত করে বিভিন্নভাবে- যেমন স্থানীয়ভাবে কেউ চাঁদ দেখে থাকলে তার তথ্য কিংবা স্থিরচিত্র বা ভিডিও চিত্র ইত্যাদি দ্রুত সংগ্রহ করে তার সত্যসত্যতা স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত হয়ে থাকে তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির নিকট দ্রুত পৌঁছিয়ে থাকেন। শর্ত হচ্ছে, নির্ভরযোগ্য ও ভালো দৃষ্টি শক্তিসম্পন্ন কাউকে চাঁদ দেখতে হবে। একই সাথে আবহাওয়া অধিদফতরের দেশজুড়ে যে ৭৪টি স্টেশন আছে সেখান থেকেও তথ্য নেয় চাঁদ দেখা কমিটি। যদি আবহাওয়া অনুকূল না থাকে অর্থাৎ মেঘাচ্ছন্নতার কারণে খালি চোখে চাঁদ দেখার সুযোগ না থাকলে আবহাওয়া স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্যও চাঁদ দেশের আকাশে উঠেছে কি-না তা নিশ্চিত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক জনাব মোজাহারুল মান্নান বলেনঃ "চাঁদ উঠলে সেটি কোথাও না কোথাও দেখা যায় সাধারণত। মানুষের চোখে বা মেশিনের (আবহাওয়া স্টেশনের) সাহায্যে এটি নিশ্চিত হলেই কেবল ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয়"।
আবহাওয়া স্টেশনগুলো চাঁদ দেখার কাজে কিভাবে সহায়তা করে?
ঢাকা আবহাওয়া অফিস কর্মরত জনৈক আবহাওয়াবিদের ভাষ্যমতে, চাঁদ উঠলে সেটি কোথায় কত ডিগ্রিতে অর্থাৎ তার অবস্থান কি হবে এবং কতক্ষণ সময় ধরে দেখা যেতে পারে সেজন্য আবহাওয়া অফিসের একটি বিভাগ আগে থেকেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই হিসেব নিকেশ করে স্টেশনগুলোকে জানিয়ে থাকে। তার ওপর ভিত্তি করে সবগুলো স্টেশন কাজ করে এবং সম্ভাব্য সময়টিতে সম্ভাব্য স্থানে খালি চোখে ও যন্ত্রের সাহায্যে দেখা হয়। যেহেতু একটি নতুন চাঁদ দৃশ্যমান সময় সাপেক্ষ ব্যাপার সেক্ষেত্রে চাঁদের অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য যন্ত্রের সাহায্য নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
আবহাওয়াবিদের মতে, যদি কোথাও চাঁদ উঠে থাকে কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য যদি সেটি খালি চোখে দেখা না যায় তখনই যন্ত্র ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দেয়। উল্লেখ্য, অপটিক্যাল থিওডিলাইট নামক একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টেলিস্কোপ দিয়ে আবহাওয়া স্টেশনগুলো কাজ করে থাকে। "তবে চাঁদ উঠলে সেটি কোথাও না কোথাও খালি চোখে না হলে টেলিস্কোপে ধরা পড়বেই। আর সেটি দেখা মাত্রই আবহাওয়া বিভাগ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে থাকে"। এভাবেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে সারাদেশের কমিটি গুলো ও আবহাওয়া বিভাগ একযোগে কাজ করে ঈদের চাঁদ দেখার সঠিক তথ্য নিশ্চিত করে থাকে বলে জানালেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীনি দাওয়াহ বিভাগের কর্মকর্তা জনাব মোজাহারুল মান্নান।
উল্লেখ্য, সরাসরি চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিক ফোন/মোবাইল/ফ্যাক্স নম্বর জেলা পর্যায়ে দেয়া হয় যাতে জনসাধারণের মধ্যে যে কেহ চাঁদ দেখে থাকলে তা এসব ফোন/ফ্যাক্সের মাধ্যমে জেলা কমিটিকে দ্রুত জানাতে সহায়ক হয়। পরে চাঁদ দেখা সংক্রান্ত খবরটি যাচাই হয়ে জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির হাতে পৌঁছায় এবং কেন্দ্রীয় কমিটি তার চুলচেরা সত্যসত্যতা যাচাই করতঃ শতভাগ নিশ্চিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জাতির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়ে থাকে। এই ঘোষণা দ্রুত পৌঁছে যায় বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদে। স্থানীয় মসজিদ কমিটি ঘোষণাটি নিশ্চিত হয়ে স্ব-স্ব মসজিদের মুয়াজ্জিন সাহেবের মাধ্যমে এবং ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ মাইকযোগে আগামীকাল (ঈদের দিন) সকাল কয় ঘটিকায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে তা পাড়া/এলাকা ভিত্তিক জানিয়ে থাকে।
ঈদের চাঁদে খুশির চিহ্ন
ঈদের চাঁদে খুশির চিহ্ন থাকে। তাই এটা সবার দেখা উচিত। প্রতিটি এলাকার মুসলমানদের ওপর আরবি মাসের হিসাব রাখা এবং মাসের শুরুতে চাঁদ দেখা ফরজে কেফায়া। কিছু লোক যদি দেখে নেয়, তাহলে সবাই দায়িত্বমুক্ত হবে; কেউ না দেখলে সবাই গুনাহগার হবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও দেখার প্রতি উৎসাহিত করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহ আনহু.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসের নতুন চাঁদ দেখে এই দোয়া পড়তেন, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম ওয়াত তাওফিকু লিমা ইউহিব্বু রব্বুনা ওয়া ইয়ারদা, রব্বুনা ওয়া রব্বুকাল্লাহ।’ (দারেমি, হাদিস : ১৭২৯; তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)
এ ছাড়া বিভিন্ন হাদিস শরিফে আরো কয়েকটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয়, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাঁদ দেখার বিষয়টিকে কত গুরুত্ব দিতেন!
وما توفيقي الا بالله
ঈদের দিনে ইয়াতীম শিশুর প্রতি দয়াল নবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহানুভবতার কাহিনী
একদা ঈদের দিন মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাস্তার পাশে একটি ছেলেকে কাঁদতে দেখে তার কাছে যান। ছেলেটি বলল, তার মা ও বাবা কেউই নেই। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছেলেটিকে গৃহে এনে বলেন, আমি তোমার পিতা আর আয়েশা তোমার মা, ফাতেমা তোমার বোন আর হাসান-হোসাইন তোমার খেলার সাথি। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতিম ছেলেটিকে সন্তানের মর্যাদা দান করেন। এভাবে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের দিন অসহায়দের সহায়তা দান করতেন। মহান আল্লাহ আমাদের মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের মতো ঈদ উদ্যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মরা পবিত্রতার সাথে উৎসব পালন করো।
ঈদুল ফিতরের শিক্ষা
রমযানের রোযা পালনের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহতায়ালার ফয়েজ, বরকত, রহমত লাভ করে ধন্য হয়ে থাকে। দীর্ঘ ২৯/৩০ দিন ব্যাপী কেবল দিনের বেলায় ক্ষুৎপিপাসার যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে একান্ত আল্লাহর ভয়ে সিয়াম বা সওম (রোজা) পালন করে থাকে তাতে মহান আল্লাহতায়ালা যারপর নাই খুশি হয়ে থাকেন। হাদীসে কুদসীতে অআল্লাহতায়ালার এই খুশির বহিঃ প্রকাশ ঘটে এই বলেঃ রোজা আমারই জন্য, আমিই (রোজাদারকে) নিজ (কুদরতি) হাতে পুরস্কৃত করবো। এইভাবে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মাবুদ অআর বান্দার মধ্যে মিলন সেতু বন্ধন তৈরী হয়ে থাকে। (সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহা-নাল্লাহিল 'আজীম)।
কুল্লু মুসলিমুন ইখওয়াতুনঃ দুনিয়ার মুসলিম ভাই ভাই।
আল মুসলিমু মিল্লাতুন ওয়াহিদাঃ দুনিয়ার মুসলিম এক।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তুমি মুমিনগণকে পারস্পরিক। করুণা, ভালোবাসা ও সহানুভূতির ক্ষেত্রে একটি দেহের মতই দেখতে পাবে। এর একটি অংগ ব্যথিত হলে সকল অংগই বিনিদ্রিত ও জরাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
সমাজ তথা বিশ্বের প্রতিটি ঈমানদার পরস্পর ভাই ভাই। ঈদ আমাদের মধ্যে এ শিক্ষা জাগ্রত করে। ঈদের ময়দানে আমরা সহাস্য বদনে কোলাকুলি করি। সহমর্মিতা, সৌহাদ্য ও সৌজন্য প্রদর্শনে এগিয়ে আসি।
ঈদুল ফিতর আমাদেরকে হিংসা, দ্বেষ, ঘৃণা এবং জিঘাংসা পরিহার করতে শিখায়। এ দিন আমরা খোলামনে একে অপরকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানাই। মনের সকল হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে করে পরস্পর ভাই ভাই হিসাবে মিলিত হই। সুদীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তিরা তাকওয়া গুণে উজ্জীবিত হয়। নিজেদের আখলাক ও চরিত্রকে করে পূতঃপবিত্র। ঈদুল ফিতর আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় পরবর্তী ১১ মাস এ শিক্ষা স্মরণ রাখতে হবে। ঈদুল ফিতরের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা হলো, দলমত নির্বিশেষে সকল দেশের সকল বিশ্বাসী মুসলিম মিল্লাতকে ইত্তেহাদ, ইত্তেফাকের মাধ্যমে ঈদগাহে সমবেত করে একক প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ভাষায় বলা হয় উম্মাতু ওয়াহিদা অর্থাৎ 'একক উম্মাহ্ গড়ে তোলা হয়ঃ ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুত্ তাকুল্লাহা হাক্কা তুকাতিহি ওয়ালা তামুতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমুন। ওয়াতাসিমু বিহাবিলল্লাহি জামিয়াওঁ ওয়ালা তাফার্রাকু'। এর অর্থ হচ্ছে: 'হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনো অবস্থায় মরো না। তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু (কুরআন ও ইসলাম) দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা -আল্লাহর এই আদেশ -কে বাস্তবায়ন করে। এই ঐক্যবদ্ধতা, সহমর্মিতা একসাথে ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা ঈদগাহে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বসে যে ঈদের নামাজ আদায় করি, নামাজান্তে পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করি সকল জাগতিক ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বাকী ১১ মাসও ধারণ করাই হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শিক্ষা।
وما توفيقي الا بالله
Wama Taufiqi illa Billah
And my success (in my task) can only come from Allah.
ঈদের দিনে ইয়াতীম শিশুর প্রতি দয়াল নবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহানুভবতার কাহিনী
একদা ঈদের দিন মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাস্তার পাশে একটি ছেলেকে কাঁদতে দেখে তার কাছে যান। ছেলেটি বলল, তার মা ও বাবা কেউই নেই। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছেলেটিকে গৃহে এনে বলেন, আমি তোমার পিতা আর আয়েশা তোমার মা, ফাতেমা তোমার বোন আর হাসান-হোসাইন তোমার খেলার সাথি। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতিম ছেলেটিকে সন্তানের মর্যাদা দান করেন। এভাবে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের দিন অসহায়দের সহায়তা দান করতেন। মহান আল্লাহ আমাদের মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের মতো ঈদ উদ্যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।· দেশে দেশে ঈদের আনন্দ-খুশির বার্তা
রমজানের রোজা শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয় ঈদুল ফিতর। রোজাদারদের মনে অফুরন্ত আনন্দ-উদ্দীপনা তৈরি করে দিনটি। পৃথিবীর সব মুসলিমের মাঝে থাকে অনাবিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দেশে দেশে বৈচিত্র্যময় পরিবেশে উদ্যাপন করা হয় আনন্দের এই দিনটি।
তুরস্কে ঈদুল ফিতর
তুরস্কে ঈদ উপলক্ষে থাকে সরকারি ছুটি। ঈদের জন্য সবার গায়ে থাকে নতুন জামা। ঈদের নামাজের পর পারস্পরিক সাক্ষাৎ বিনিময় হয়। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করে সবাই। বিশেষত প্রবীণদের ঘরে মিলিত হয় সবাই। এ সময় কিশোররা মুরব্বিদের ডান হাত চুম্বন করে। গ্রামের প্রতিটি ঘরের দরজায় গিয়ে টোকা দিয়ে ঈদের আগমনী বার্তা জানান দেয় শিশুরা। ঘরওয়ালারা তাদের দেয় ঈদের সালামি। সঙ্গে থাকে হালকা নাশতাও। তা ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে কবরস্থানে যায় সবাই।
ফিলিস্তিনে ঈদুল ফিতর
ঈদের রাতে ফিলিস্তিনের নারীরা তৈরি করে নানা ধরনের মিষ্টান্ন খাবার। ঈদের নামাজ আদায় করতে সবাই বড় বড় মসজিদে যায়। এ সময় পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদটি মুসল্লিতে ভরে যায়। ইহুদিদের অত্যাচার-নিপীড়ন সত্ত্বেও মুসলিমদের মুখে ফুটে থাকে হাসি ও আনন্দ।ইরাকে ঈদুল ফিতর
ইরাকে ঈদের দিন বিশেষ বাসনে সাজানো হয় নানা রকম খাদ্যদ্রব্য। ঈদের নামাজের পর খাবার গ্রহণ করে সবাই আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতে বের হয়। পরিবারের মা-বাবা বা প্রবীণ কারো কাছে এসে মিলিত হয় সবাই। মাঠে গিয়ে বিভিন্ন খেলায় নিমগ্ন হয় শিশুরা। তা ছাড়া শিশু-কিশোরদের মনে বিরাজ করে ঈদের সালামি পাওয়ার আনন্দ-উদ্দীপনা।
সুদানে ঈদুল ফিতর
সুদানে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় মাঝ রমজান থেকে। পরিবারের নারীরা নানা রকম কেক, মিষ্টদ্রব্য ও রুটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করে রমজানের শেষ দিন আর পুরুষরা বড় কোনো ঘরে সমবেত হয়। কিংবা সবাই ইফতারি নিয়ে কোনো খোলা প্রাঙ্গণে এসে একত্র হয় আর একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে। এ সময় নারী-পুরুষ, এমনকি শিশুরাও একে অপরকে জানায় ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা।
নাইজেরিয়া ঈদুল ফিতর
ঈদ উপলক্ষে নাইজেরিয়ার মুসলিমরা গ্রামে ফিরে যায়। নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ-খুশিতে শরিক হতে সবাই ফিরে যায় আপন নীড়ে। নাইজেরিয়ায় মুসলিম-অমুসলিমের বসবাস থাকলেও ঈদ উপলক্ষে সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়। তেমনি মুসলিম-অমুসলিম সবাই একে অপরকে অভিবাদন জানায়। তাই ঈদ ঘিরে সব ধর্মাবলম্বীর মধ্যে বিরাজ করে ব্যাপক আনন্দ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ঈদুল ফিতর
দক্ষিণ আফ্রিকায় ঈদের চাঁদ নিয়ে থাকে ব্যাপক উৎসাহ। তাই রমজানের শেষ দিনে ইফতারের ব্যবস্থা থাকে ঘরের বাইরে। ঈদের চাঁদ যেন কারো অদেখা না থাকে, তাই আকাশপানে সবার দৃষ্টি থাকে নিবদ্ধ। পুরুষরা নতুন জামা পরিধান করে ঈদের নামাজ আদায় করে। অতঃপর পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর
সরকারিভাবে ঈদ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ছুটি না থাকলেও মুসলিমদের জন্য ছুটি গ্রহণের সুযোগ থাকে। মসজিদ বা খোলা প্রাঙ্গণে সম্পন্ন হয় ঈদের নামাজ। তবে ঈদ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে শিল্প-সংস্কৃতির প্রদর্শনী হয়।
ফিলিপাইনে ঈদুল ফিতর
সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টানের দেশ হিসেবে সর্বপ্রথম ফিলিপাইন মুসলিমদের জন্য ঈদের দিন সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে। এতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মাঝে বিরাজ করে ধর্মীয় সম্প্রীতিবোধ। ঈদের দিন মুসলিমরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। অনেকে ভ্রমণে বের হয়। অনেক বিদেশি পর্যটকও ঈদ উপলক্ষে ফিলিপাইন ভ্রমণে আসে।
ঈদের দিন সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয় ইন্দোনেশিয়ায়। ঈদের নামাজের পরই সবাই একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যায়। উপহারসামগ্রীরও আদান-প্রদান হয়। প্রবীণদের কাছ থেকে শিশু-কিশোরদের জন্য থাকে ঈদের সালামি। ঈদ উদ্যাপনে সবাই ফিরে যায় গ্রামের বাড়িতে। ফলে তৈরি হয় ব্যাপক যানজট। দ্বীপরাজ্য ইন্দোনেশিয়ার প্রায় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় নানা রকম সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। রাজধানী জাকার্তায় গ্রামাঞ্চলের দরিদ্রদের প্রদান করা হয় খাদ্যদ্রব্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল ফিতর
মালেশিয়ায় ঈদুল ফিতর
মালেশিয়ায় ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হয় ঈদ। পরিবারের সব বয়সী সদস্যের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের সঙ্গেও দেখা করা হয়। বিভিন্ন শহরে সব শ্রেণির অতিথিদের জন্য থাকে উন্মুক্ত ঘর। মুসলিম ও অমুসলিম সবাইকে আতিথেয়তার সঙ্গে বরণ করা হয় সেখানে।
ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর
ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ঈদের রাতেই প্রায় প্রতিটি পরিবারের শিশু-কিশোর,যুবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ভরপুর হয়ে উঠে। এ ছাড়া ঈদের কয়েক দিন আগেই গৃহকর্ত্রীরা ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন সম্পন্ন করে। ঈদ উপলক্ষে তৈরি করা হয় নানা প্রকারের মিষ্ট খাদ্যসামগ্রী। শিশু-কিশোরদের মাঝে থাকে ঈদের সালামি গ্রহণের আবেগ-উচ্ছ্বাস।

জার্মানীতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের দৃশ্যঃ
ভারত-বাংলাদেশের মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী ঈদের গান
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
-কাজী নজরুল ইসলাম
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী
সেই গরিব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।
ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের,
তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয় মনে উম্মীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
তোরে মারল ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা
সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী
সেই গরিব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।
ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের,
তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয় মনে উম্মীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
তোরে মারল ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা
সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।
খবরে ঈদ-উল-ফিতরঃ ১৪৪১ হিজরী সাল
বাংলাদেশ
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের পর পর
৫টি জামাত অনুষ্ঠিত
বায়তুল মুকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একাধিক জামাতে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
৫টি জামাত অনুষ্ঠিত
বায়তুল মুকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একাধিক জামাতে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী।
নামাজ শুরুর আগে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানানো হয়। এর আগে সকাল ৬টায় মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশের জন্য গেইট খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ শুরু করেন। মসজিদে হাত ধোয়া, জীবাণুনাশক কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বায়তুল মোকাররমে ঈদের আরও তিনটি জামাত যথাক্রমে ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তৃতীয় জামাতে ইমামতি করেন পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। চতুর্থ জামাতে ইমামতি করেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। সর্শেবষ ও পঞ্চম জামাতে ইমামিত করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান।
নামাজ শেষে কাউকেই দেখা যায়নি হাত মেলানো বা কোলাকুলি করতে। ফলে অনেকই একটু কষ্ট মনে নিয়েই ফিরেছেন ঘরে।মুসল্লিরা জানিয়েছেন, ঈদের নামাজের পর প্রধান আনন্দ কোলাকুলিতেই। তবে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এবার তারা বিরত থাকছেন সেসব থেকে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ-উল-ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠানের অনন্য নজির স্থাপনে শেখজী জামে মসজিদ
নভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষার উদ্দেশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক প্রদত্ত জরুরী নির্দেশনাসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান নির্দেশনা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। বস্ত্ততঃ করোনা ভাইরাস থেকে আত্মরক্ষার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থেই দেশে দেশে সরকারীভাবে লকডাউনের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ইউনিভার্সিটি, আউটডোর সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা এবং বেসরকারী ছোট-বড় সব ধরণের প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানাদি বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে মাসের পর মাস যাবৎ। এমনকি কেবল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণেই অভাবনীয়, অকল্পনীয়ভাবে পবিত্র দীন ইসলামের ৩ প্রধান মসজিদ যথাঃ (১) হারামাইন শারিফাইন তথা বায়তুল্লাহ মসজিদুল হারাম, (২) মসজিদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু অআলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং (৩) বায়তুল মোকাদ্দাসের মসজিদুল আকসা-সহ পৃথিবীর সব দেশের মসজিদসমূহও কঠোর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার শর্ত সাপেক্ষে সীমিতভাবে চালু রয়েছে। এমন এক দুঃসহ প্রেক্ষাপটে করোনাগ্রস্থ পৃথিবীর আকাশে যথারীতি উদিত হয় এবারের ১৪৪১ হিজরী বর্ষের শাওয়ালের ঈদের চাঁদ ।
ঈদ মানেই সালাতুল ঈদ-উল-ফিতর অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের নামাজ, যাতে জুমার নামাযের চাইতেও ধ্বস নামানো বিপুল জনসমাগম ঘটে থাকে ঈদগাহে অথবা জামে মসজিদসমূহে। তাই প্রটোকল রক্ষা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তাই সংগত কারণে আশংকা দেখা দেয়। কিন্তু সহজ পন্থায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যে বড় বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব; তা প্রমাণ রেখেছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত জেলা ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ১০ নং ঘোপাল ইউনিয়নের 'দৌলতপুর' নামক গ্রামের ঐতিহ্যবাহী *শেখজীপাড়া জামে মসজিদ। পাড়াভিত্তিক একটি মাঝারি আয়তন-আকৃতির দোতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে কয়েকশত মুসল্লির সমাগম হয়ে থাকে জুমাবার এবং ঈদ জামাতে।
সন্মানিত শেখজী মসজিদ পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা জনাব শেখ মুহাম্মাদ জাফর উল্লাহ (ছোট ভাই) ঈদের দিন নামাযের পর মুঠোফোনে আমাদেরকে জানান, শেখজী মসজিদ পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তমতে এবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে মূল জামাত ২(দুই) স্তরে অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত সকাল সাতটায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহা্ম্মাদ মিসবাহ উদ্দীন সাহেব এবং পরবর্তী জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মাদ মাঈনুদ্দীন সাহেব। এটি লকডাউন কবলিত বাংলাদেশ তথা বিশ্বের জন্য এক অনন্য উদাহরণ বটে। উল্লেখ্য, এ দিন আমরা (এই প্রতিবেদক) চট্রগ্রাম মহানগরীর পাড়াভিত্তিক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ৫ তলা বিশিষ্ট সুপরিসরের এক জামে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করতে গেলে দেখা যায়, পুরো মসজিদে মুসল্লিরা উপচে পড়ছে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে ট্রাংক রোডের উপর ঈদের নামাজ আদায়ে বাধ্য হয়েছি। শেখজী মসজিদের আদলে একাধিক জামাত অনুষ্ঠান করা হলে এ ধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব হয়তো আদৌ হতো না। আশা করি, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহার (কুরবাণীর ঈদের) জামাত অনুষ্ঠানে শেখজী জামে মসজিদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হবে।
পরিশেষে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররম এবং শেখজী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একাধিক জামাতের এন্তেজামের যুগান্তকরী ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের জন্য আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর শুকরিয়া এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে ইস্তিকবাল জানাই।
وما توفيقي الا بالله
*কথিত আছে, অতীতকালে সুদূর আরবদেশ থেকে কয়েকজন আরবী সহোদর ভাই বাংলাদেশে পদার্পন করেছিলেন । তন্মধ্যে 'নাহার শেখ' নামক এক ভাই ফেনীর ছাগলনাইয়ার দৌলতপুর নামক গ্রামের যে পাড়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন পরবর্তীতে তার নামকরণ হয় শেখজী পাড়া। (তথ্যসূত্রঃ মরহুম ওয়ালেদ শেখ সুলতান আহমদ)।
*কথিত আছে, অতীতকালে সুদূর আরবদেশ থেকে কয়েকজন আরবী সহোদর ভাই বাংলাদেশে পদার্পন করেছিলেন । তন্মধ্যে 'নাহার শেখ' নামক এক ভাই ফেনীর ছাগলনাইয়ার দৌলতপুর নামক গ্রামের যে পাড়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন পরবর্তীতে তার নামকরণ হয় শেখজী পাড়া। (তথ্যসূত্রঃ মরহুম ওয়ালেদ শেখ সুলতান আহমদ)।
ঈদ জামাত পরিচালনাকালে সিজদারতবস্থায় ইমাম সাহেবের ইন্তেকাল
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শেলাচাপরী গ্রামের মধ্যপাড়া জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ পরিচালনা কালে ইমাম আইয়ুব আলী (৭০) সিজদারতবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার সকালে ঐ মসজিদে ঈদের নামাজের প্রথম জামাত পরিচালনা করছিলেন তিনি। তিনি গ্রামের মরহুম দেরাজ আলী মুন্সির ছেলে।
শেলাচাপরী মধ্যপাড়া জামে মসজিদে সভাপতি এ্যাড হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, ঈদুল ফিতরের সকাল সাড়ে আটটার নামাজের ঈমাম ছিলেন আইয়ুব আলী সাহেব। নামাজ শুরুর করার পর প্রথম রাকাতের ২য় সিজদায় গিয়ে হঠাৎ ঢ'লে পড়েন। তখনই তার মৃ'ত্যু হয়।
তিনি উপজেলার নন্দলালাপুর আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র আরবি প্রভাষক ও এলাকার প্রবীন সমাজ সেবক ছিলেন। তার ইন্তেকালে এলাকায় শো'কের ছায়া নেমে এসেছে।
বাঁধ ভেঙে পানি থৈ থৈ, সেখানেই ঈদের জামাত!

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা :কয়েক হাজার মানুষ পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। ঘটনাটি খুলনার সুন্দরবনের একেবারে কোলঘেঁষা কয়রা উপজেলায়। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে কয়রা উপজেলার ২ নম্বর কয়রাসহ কমপক্ষে বিশ জায়গায় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। এলাকাবাসী শুরু থেকেই নিজেরা নিজেদের চেষ্টায় বাঁধের ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন।
তুরস্কে এবার ঈদেও দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা
বাঁধ ভেঙে পানি থৈ থৈ, সেখানেই ঈদের জামাত!
(ইচ্ছা থাকিলে উপায় হয়)
গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা :কয়েক হাজার মানুষ পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। ঘটনাটি খুলনার সুন্দরবনের একেবারে কোলঘেঁষা কয়রা উপজেলায়। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে কয়রা উপজেলার ২ নম্বর কয়রাসহ কমপক্ষে বিশ জায়গায় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। এলাকাবাসী শুরু থেকেই নিজেরা নিজেদের চেষ্টায় বাঁধের ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন।
২ নম্বর কয়রায় বাঁধের চার জায়গায় ভা'ঙনের সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রতি জোয়ারেই পানি ওঠে। এলাকাবাসীও এবার পানি আটকানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছিল। এর মাঝেই আজ সোমবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু কোথায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন, চারিদিকেই পানি থৈ থৈ।
ঈদগাহগুলোও পানির তলায়। একদিকে ঈদের নামজ আদায় করা, অন্যদিকে ভা'ঙা বাঁধ আটকানো না গেলে পানিতে তলিয়ে থাকা। ফলে এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেন, তারা বাঁধ আট'কানোর কাজ করবেন। আবার ঈদের নামাজও আদায় করবেন। তাই পানিতেই দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
এলাকার যুবক ইমতিয়াজউদ্দিন, যিনি গত তিন দিন ধরে বাঁধ আটকানোর জন্যে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির কাজ করছিলেন, তিনি বলেন, উপয়ান্তর না দেখে এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেয় পানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায় করবেন। সিদ্ধান্তমতে, সোমবার ঈদের দিন সকালে ২ নম্বর কয়রার হাজার পাঁচেক মানুষ পানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায় করেন। একইসাথে বাঁধ আটকানোর কাজও চলে। শুধুমাত্র নামাজ আদায়ের সময় কাজ বন্ধ ছিল। তাঁরা বাঁধের একটি ভাঙন আটকাতে সক্ষম হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আরও দুই জায়গার ভাঙন আ'টকানো সম্ভব হবে (ইনশাআল্লাহ)।– সূত্র কালের কণ্ঠঈদের দিন মদপান করে মৃত্যুবরণ
বিবাহ যে নিকাহ-ই-সূন্নাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অআলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ভুলে গিয়ে বিবাহের পূর্ব রাতে কেউ কেউ কনসার্টের নামে, গায়ে হলুদের নামে যা করে থাকে তা নিকাহ-ই-সূন্নাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অআলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যায়ে পড়ে না, বরং তার বিপরীত জাহিলিয়াতের শামিল হয়ে যায়। অনুরূপ ঈদ ইসলামী শারীয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এটিও উদযাপনকালে ভুলে গিয়ে অনৈসলামিক যতসব কর্মকান্ড করে বসি যা সত্যিই দুঃখজনক। করোনা ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের আকাশে এবারও যথারীতি ঈদের চাঁদ উঠে মানুষ শরাহ-শারীয়াতমতে যথানিয়মে ঈদোৎসব পালন করে। পরিতাপের বিষয় ঈদুল ফিতরের ইসলামী মূল্যবোধ ভুলে কিছু মদ্যপায়ী মদ পান করতে গিয়ে নিজেদের জীবনকে ভয়ংকর বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয় যা সত্যিই দুঃখজনক।
খবরে প্রকাশ, রংপুরের এক উপজেলায় ঈদের দিন সোমবার বিষাক্ত মদপানে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মদপানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত সাতজন। থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিষয়টি নিয়ে জোর অনুসন্ধান চলছে।
এদিকে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বলেন, ম'দের উৎস এবং ম'দ সরবরাহকারীকে খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তুরস্কে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রা'ন্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ছয়শ ৮৬ জন এবং মা'রা গেছে চার হাজার তিনশ আটজন।
গত ১১ মার্চ সে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনা'ক্ত হওয়ার পর এই প্রথম দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে করোনা যেন ছড়াতে না পারে, সেজন্য চারদিনের লকডাউন চলছে সে দেশে।
তুরস্কের ৮১ প্রদেশে গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই কারফিউ চলছে। মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র রমযান মাসে রোযা রাখার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে তারা। এরই মধ্যে করোনা সং'ক্রমণ যেন বেড়ে না যায়, সে কারণে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোচা বলেন, শনিবার পর্যন্ত এক লাখ ৫৫ হাজার ছয়শ ৮৬ জন আক্রা'ন্ত এবং চার হাজার তিনশ আটজন করোনায় মা'রা গেছে।
তার পরেও এতোদিন কেবল ৩১ টি প্রদেশে লকডাউন ছিল। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে এবং ২০ বছরের কম বয়সীদের বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে আগে থেকেই কড়াকড়ি ছিল। এখন চারদিনের জন্য সারাদেশে লকডাউন চলছে।সূত্র : তার্কিশ
মুসলিম উম্মাহর প্রতি জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী ঈদ নসিহত
দেশের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের সহায়তায় ইউটিউব-ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলের সাথে যুক্ত আছেন। বিগত যেকোনো বছরের ঈদের তুলনায় এই বছরের ঈদটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কেননা এই মহামা'রিকালীন ঈদের সালাত জামায়াতে আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই সকল মুসলিমের সুবিধার্থে ঈদের সালাত আদায়ের নিয়মাবলি বর্ণনা করে আজহারী সাহেব একটি ভি'ডিও প্রকাশ করেছেন। ভি'ডিওতে করোনা পরিস্থিতিতে সং'ক্রমণ ঠে'কাতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি ঈদের সালাত একা বা ঘরে আদায় করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ড. আজহারী জানান, ঈদের নামাজে আজান ও ইকামাত দেয়ার প্রয়োজন নেই। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঈদের নামাজে নিয়মাবলীগুলো হলো- ঈদের নামাজ সাধারণত দুই রাকাত হয়ে থাকে। ফজরের নামাজের ন্যায় আওয়াজ করে তাকবির পড়তে হয়। তবে ঈদের নামাজে অতিরিক্ত কিছু তাকবির দিতে হয়। অতিরিক্ত তাকবিরের বর্ণনা দিয়ে আজহারী বলেন, মাজহাব ভেদে তাকবিরের সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকআতে তিনটি দ্বিতীয় রাকাআতে তিনটি।
সাফি মাজহাবে ১২টি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রথম রাকআতে সাতটি ও দ্বিতীয় রাকআতে পাচটি। হাম্বলি আর মালিকি মাজহাবে ১১টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকাআতে ছয়টি আর দ্বিতীয় রাকাআতে পাচটি।
তবে বাংলা ভাষাভাষীরা মূলত হানাফি মাজহাবের অনুসারী হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আজহারী সাহেব ছয় তাকবিরের পরামর্শ দিয়েছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী নামাজ আদায়ের পদ্ধতি হলো- নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবিরে তাহরীমা অর্থাৎ 'আল্লাহু আকবার' বলে সানা পড়তে হবে। তারপর কেরআন পড়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিতে হবে অর্থাৎ 'আল্লাহু আকবর' তিনবার বলতে হবে। এরপর সূরা ফাতেহার সাথে অন্য একটি সূরা এবং অন্য সকল নামাজের ন্যায় রুকু ও সিজদাহ করতে হবে।
এবার দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাড়িয়ে প্রথমে কেরআন পড়তে হবে অর্থাৎ সূরা ফাতেহা ও সাথে অন্য একটা সূরা পড়তে হবে। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে তিনটি তাকবির অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ তিনবার বলতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির দিয়ে তারপর রুকুতে যেতে হবে। এখানে তিনটি অতিরিক্ত তাকবির ও চতুর্থটি নামাজের স্বাভাবিক তাকবির। এভাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়ার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ড. আজহারী। তবে ঘরে ঈদের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে খুতবার প্রসঙ্গটি বাদ যাবে। কেননা খুতবা সকলের উদ্দেশে ইমাম সাহেব দিয়ে থাকেন।
আল্লাহ পাকের কাছে মহামারিকালীন সাহায্য ও রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে সকলের রোগমুক্তি কামনা করেছেন।
দেশে বিদেশে অবস্থানরত, সবাইকে ঈদ মুবারাক, ঈদ হোক কল্যাণময় বরকতময়: আল্লামা আজহারী
বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার ফেসবুক পেজ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এমটিনিউজ২৪.কম পাঠকদের জন্য সেই লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো।
‘‘ঈদ মুবারাক
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। দেশে বিদেশে অবস্থানরত, সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ হোক কল্যাণময় বরকতময়।
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। দেশে বিদেশে অবস্থানরত, সবাইকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ হোক কল্যাণময় বরকতময়।
ঈদের সালাতের আগেই, আপনার সাদাকাতুল ফিতর আদায় নিশ্চিত করুন। খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা সুন্নাহ। বিশেষ প্রয়োজনে টাকা দিয়েও আদায় করা জায়েয ইনশাআল্লাহ। এখন আপনি কোনটা করবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনার। তবে এটা নিয়ে অযথা তর্ক এড়িয়ে চলুন।
স্বাস্থ্যবিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম মেনে, খোলা ময়দানে অথবা মসজিদে ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করুন। সম্ভব না হলে বাসায় পরিবারের সবাই মিলে জামাতে ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করুন। ঈদের সালাত ঘরে সবাই মিলে জামাতে আদায়ের দৃষ্টান্তও একজন জলীলুল কদর সাহাবির আমল দ্বারা স্বীকৃত। তাই, এটা নিয়ে সংশয়ে ভোগার কোন কারণ নেই।
আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনাদের আন্তরিক দোয়ায় আমাদেরকে শামিল রাখুন। আপনাদের এবং আপনাদের পরিবারের জন্য রইলো অনেক দোয়া ও শুভকামনা।”
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবাইকে শুভ কামনা, ঈদ মোবারক : নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী
করোনা ভাইরাসের সং'ক্র'মণে সারা বিশ্বই বিপ'র্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিউজিল্যান্ডের মুসলমানসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। ভিডিও বার্তায় জেসিন্ডা বলেন, আসসালামু আলাইকুম, ঈদুল ফিতর উদযাপনে সবাইকে আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা। তিনি যোগ করেন, কিউই মুসলিমসহ সবার জন্য এটা একটা কঠিন সময়। সবার ঐক্যবদ্ধতা, অনুগ্রহ ও উদারতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ড যেভাবে পরি'স্থিতি মো'কাবিলা করছে তাতে আমি মুগ্ধ।
করোনা ভাইরাস পরি'স্থিতিতে এবারের ঈদ অন্যবারের মতো না হওয়ায় আফসোস করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''সাধারণত ঈদে আপানার যেভাবে একত্রিত হয়ে আনন্দ করেন এবার হয়তো তা পারবেন না। কেননা কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা সবাই একপ্রকার আবদ্ধ অবস্থায় আছি। বিশেষ এই উপলক্ষে সবাইকে শুভ কামনা। ঈদ মোবারক!''
ভারতের আঞ্চলিক ঈদ সংবাদ
রমজান মাসের শেষে দশম ইসলাম মাস শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর পালন করা হয়। রোজা ও ইবাদতের মাস রমজান মাস। শাওয়াল মাসের চাঁদ প্রথম দেখা যায় সৌদি আরবে। তার সময়, তারিখ বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা হয়। ঈদুল ফিতর ভারতে পালিত হবে ২৫ মে। তবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে তা পরিবর্তিত হতে পারে।
একবার শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলেই শুরু হবে ঈদ ২০২০ পালন। কেরালা রবিবার ঈদ পালন করবে। সেরাজ্যের মুসলিম ধর্মীয় নেতারা একথা জানিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই অনুসারে, শনিবারই লাদাখে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। সেখানকার এক স্থানীয় ওই সংবাদ সংস্থাকে জানাচ্ছেন, 'কার্গিলে চাঁদ দেখা গিয়েছে গতকাল। তাই লাদাখে আজ ঈদ পালিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ সং'ক্র'মণের কারণে আমরা আমাদের প্রার্থনা বাড়িতেই করব।''
গত ২৬ এপ্রিল ভারতে রমজান শুরু হয়। সাধারণত ২৯ থেকে ৩০ দিন রমজান পালিত হয়। রমজানের শেষে ঈদুল ফিতর ঘোষিত হয়। রবিবার সংযুক্ত আরব আমিররাত, কুয়েত, কাতার ও বেহরিনের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশে রবিবার ঈদ উদযাপিত হবে।
ঈদের দিন প্রার্থনা করা ছাড়াও মসজিদে মুসলিমদের সামনে প্রদত্ত ধর্মীয় বক্তৃতা 'খুতবা' শোনা কিংবা জাকাত-আল-ফিতর অর্থাৎ খাবার দান করা হয়। পাশাপাশি পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে দেখা করে ইদের শুভেচ্ছা জানানো ও উপহার দেওয়ার রীতিও রয়েছে। ছোটদের 'ইদি' অর্থাৎ ছোট উপহার দেন বড়রা।
সমস্ত উৎসবের মতো ঈদেও সুখাদ্যের বন্দোবস্ত থাকে। ঈদে বিরিয়ানি, কাবাব, টিক্কা খাওয়া হয়। হালিম কিংবা কোর্মাও খাওয়া হয়। এই ঈদকে 'মিঠি ঈদ'-ও বলে। শিয়ার খুরমা, খাবুনি, খালিজা ফেনির মতো মিষ্টান্ন খাওয়ারও চল রয়েছে ঈদের সময়। সূত্র : এনডিটিভি
সহীহ হাদিসের আলোকের শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত
সহীহ হাদিসের আলোকের শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّامِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
رواه مسلم (1164)
“যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখল অতঃপর এ রোজার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল।” [সহিহ মুসলিম (১১৬৪)]
শাওয়ালের রোজার ফজীলত: এই রোজার ফজীলত সর্ম্পকে রাসুলুল্লাহ সা: হাদিসের মধ্যে ইরশাদ করেন,“যারা মাহে রমজানের ফরজ রোজা রাখবে,অতপর মাহে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখবে তারা সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জন করবে। [মুসলিম শরীফ :১ম.খন্ড ৩৬৯পৃ:]
ঈদুল ফিতরের দিন বাদে শাওয়াল মাসে ৬টি নফল রোজা রাখলে এক বছর নফল রোজার ছওয়া পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে আবু আইয়ুব আনসারি (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ২/৮২২)
হযরত উবাইদুল্লাহ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত.তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম ,ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব? তখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন,“তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে”,কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে. রমজানের রোজা রাখ এবং রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের ছয় রোজা রাখ, তাহলেই তুমি সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে। [তিরমিযি শরিফ:১ম খন্ড.১৫৭পৃ:]
সাওবান (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।’ (নাসায়ি, হাদিস নং: ২/১৬২)
উল্লেখ্য, আল কুরআন কারীমের সুরায়ে আনআমের ১৬০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, “যে লোক একটি নেক কর্ম আঞ্জাম দিবে সে লোক দশগুণ বেশী সওয়াব পাবে”।
সে হিসেবে রমজানের ত্রিশ রোজায় তিনশত রোজার সওয়াব হয়। আর মাহে শাওয়ালের ছয় রোজায় ষাট রোজার সওয়াব হয়। এভাবে রমজানের ৩০ রোজা এবং শাওয়ালের ৬ রোজা মোট ৩৬ রোজা দশ দিয়ে গুণ দিলে ৩৬০ রোজার সমান হয়ে যায়, আর ৩৬০ দিনে এক বছর। সুতরাং ৩৬ টি রোজায় সারা রছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।
লক্ষ্যণীয় যে, মুসলমান দিনে সালাত বা নামাজ আদায় করেন ৫বার কিন্তু সওয়াব লাভ করেন প্রতিটি আমলের বোনাস হচ্ছে ১০গুণ হিসাবমতে ৫ ওয়াক্তের সওয়াব ৫০ ওয়াক্তের সমপরিমাণ। পক্ষান্তরে যদি চাঁদ ২৯ দিনে হয় কিন্তু উপরোক্ত হাদীসের গণনামতে রোজাদার ৩০ দিনেরই রোজার সওয়াব লাভ করে। মেহেরবাণ আল্লাহর সওয়াবের ভান্ডারে কমতি নেই!
শাইখ উছাইমীনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: কোন নারীর উপর যদি রমজানের রোজার ঋণ থেকে যায় তাহলে তার জন্য কি রমজানের ঋণের আগে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা জায়েয হবে; নাকি শাওয়ালের ছয়রোজার আগে রমজানের ঋণের রোজা রাখতেহবে? জবাবে তিনি বলেন: যদি কোন নারীর উপর রমজানের কাযা রোজা থাকে তাহলে তিনি কাযা রোজা পালনের আগে ছয়রোজা রাখবেন না।
প্রশ্নঃ যাঁদের রমজানের ভাংতি রোজা আছে তাদের জন্য করণীয় কী? কীভাবে তারা এ ফজিলতপূর্ণ রোজা পালন করবেন?
উত্তরঃ যাঁদের ভাংতি রোজা আছে, অসুস্থতা কিংবা হায়েজ-নেফাসের করণে রমজানের রোজা অপূর্ণ থাকে তবে তাঁদের জন্য নিয়ম ও করণীয় হলো-
'শাওয়াল মাসে তাঁদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নেবে। তারপর তাঁরা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে এবং বছরজুড়ে রোজা পালনের সাওয়াব লাভে ধন্য হবে। কারণ হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে রমজানের রোজা রাখবে অর্থাৎ পুরোপুরি…। আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করে।' (আল-মুগনি)
'শাওয়াল মাসে তাঁদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নেবে। তারপর তাঁরা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে এবং বছরজুড়ে রোজা পালনের সাওয়াব লাভে ধন্য হবে। কারণ হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে রমজানের রোজা রাখবে অর্থাৎ পুরোপুরি…। আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করে।' (আল-মুগনি)
এ সম্পর্কে কয়েকজন ইসলামিক স্কলারের বক্তব্য হলো-
- শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিনের মতে, 'নারীদের জন্য বা যাদের রোজা কাজা আছে, তারা শাওয়ালের সওয়াব পেতে হলে আগে রমজানের কাযা রোজা রেখে এর পরে শাওয়ালের রোজা রাখা শুরু করতে হবে।'
- শায়খ সুলায়মান আর-রুহাইলির মতে, 'শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত পাওয়ার জন্য প্রথমে রমজানের কাজা রোজা আদায় করে নিতে হবে।'
সুতরাং মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষের উচিত, রমজানের রোজা কাজার প্রস্তুতি নেয়া। আর কাজা সম্পন্ন করে শাওয়ালের ৬(ছয়) রোজার অসামান্য ফজিলত লাভ করা।
(বিঃদ্রঃ ছয় রোজা সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিচিত/নিকটস্থ মুফতিয়ে কেরাম থেকে জেনে নেয়া যেতে পারে)।
সুবহানা রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি আম্মা ইয়াসিফুন; ওয়া সালামুন আলাল মুরসালিন ; ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ।
অর্থ: পবিত্রতা আপনার রবের, মহাসম্মান রবের জন্য , তারা (রবের উপর) যা আরোপ করে তাহা হইতে । এবং শান্তি(আনুগত্য/সমর্পণ) প্রেরিতগণের(নবী,রাসুল,ওলি) উপর । এবং প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সমস্ত জগতের রব । (সূরা সাফফাত, আয়াত-১৮০-১৮২)
(বিঃদ্রঃ ছয় রোজা সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিচিত/নিকটস্থ মুফতিয়ে কেরাম থেকে জেনে নেয়া যেতে পারে)।
١٨٠- سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ ◯١٨١- وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ ◯١٨٢- وَالْحَمْدُ لِلَّـهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
◯অর্থ: পবিত্রতা আপনার রবের, মহাসম্মান রবের জন্য , তারা (রবের উপর) যা আরোপ করে তাহা হইতে । এবং শান্তি(আনুগত্য/সমর্পণ) প্রেরিতগণের(নবী,রাসুল,ওলি) উপর । এবং প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সমস্ত জগতের রব । (সূরা সাফফাত, আয়াত-১৮০-১৮২)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন